Please Enable JavaScript
TrickBuzz
হ্যারি পটার

হ্যারি পটার ফ্যামিলির ইতিহাস

আচ্ছা! এতদিন এত এত ক্যারেক্টার সম্পর্কে জানার পর কখনো কি ইচ্ছা হয় নাই যে আসল বিষয় আসল মানুষটা হ্যারি পটার সম্পর্কে কিছু জানি! বা তার পরিবার সম্পর্কে কিংবা তার পূর্বপুরুষ সম্পর্কে! কিংবা হ্যারি! যার কাছে কিভাবে ইনভিজিবল ক্লোক টা এসেছিলো কোন একসময় যার মালিক ছিলো ইগনোটাস প্যাভারেল!   অবশ্যই জানতে ইচ্ছা করেছে কিন্তু প্রপার ইনফরমেশনের খোঁজে অনেক কিছুই জেনেও আমরা জানিনা, কিংবা জানতে চাইনাই তাই জানি নাই। তাহলে আজকে অনেকদিন পর আমরা জানবো পটার ফ্যামেলির হিস্ট্রি ।

তো সময়টা শুরু হয় বারো শতাব্দী থেকে যখন লিনফ্রেড নামক এক জাদুকর ব্যক্তি সিঞ্চকম্ব নামক গ্রামে বসবাস করতো এবং সে পোশন বিদ্যায় অনেক ভালো ছিলো। সে তার প্রতিভাকে কাজে লাগিয়ে গ্রামের ম্যাগল লোকদের সাহায্য করতো সে হার্বোলজি তেও অনেক বেশি পারদর্শী ছিলো যার ফলে সে তার বাসার বাহিরে তা চাষ করতো  এবং সেগুলো দিয়েই সে পোশন তৈরি করতো।

সে তার বাসার বাহিরে পটের মধ্যে ওই ঔষুধি গাছ গুলো লাগাতো এবং পরবর্তীতে সেগুলো ব্যবহার করেই মাগ্যল দের আরোগ্য লাভে সাহায্য করতো। যদিও মানুষ তাকে পাগল ভাবতো কারণ তার পোশন  বানানোর সময় বিভিন্ন রকম আওয়াজ আসতো, কিন্তু মানুষ তাকে পছন্দ ও করতো কারণ সে সবার উপকার করতো এবং চিকিৎসা করতো। সে যে যাদুকর সেটা সবাই জানতো না।

হ্যারি পটার বই
হ্যারি পটার বই

যেহেতু সে তার বাসার বাহিরে টবের বা,পটের মধ্যে নানা রকমের গাছ লাগাতো যেগুলা দেখতে একেকটা একেক রকম এবং আকর্ষনীয় তাই গ্রামের সবাই মিলে তার নাম দিয়েছিলো “পটারার ” মানে পট তৈরিকারী। কিন্তু কালক্রমে সেটা পটারার থেকে বিবর্তন হয়ে হয়ে যায় “পটার”।

যেহেতু কেউ জানতো না যে সে একজন জাদুকর তাই সে আপন মনে বাসায় বসে নিজের ঔষুধ বানাতো আর বিভিন্ন রকম এক্সপেরিমেন্ট করতো।  উনিই “স্ক্যালগো ” মানে অস্থি বর্ধক পোশন তৈরি করেছিলো এবং সর্দি কাশি ভালো হওয়ার জন্য “পেপোরাপ ” পোশন ও তৈরি করেছিলো।  তার এসব পোশন এত কার্যকরী আর ফেমাস ছিলো যে অন্যান্য যাদুকর রাও তার এই পোশন চড়া দামে কিনে নিয়ে যাইতো, আর এভাবেই সে তার পোশন বিক্রি করে সে একসময় অনেক ধনী আর ফেমাস হয়ে যায়।

লিনফ্রেডের মোট ৭ জন বাচ্চা ছিলো। তাদের মধ্যে বড় ছেলের নাম ছিলো  “হার্ডউইন ” এবং এই হার্ডউইনের পর তার আরো ৬ জন বাচ্চা হয়। এবং লিনফ্রেডের মৃত্যু হওয়ার পর তার উপার্যিত সব সম্পত্তি অর্থাৎ  গোল্ড কয়েন সব বাচ্চাদের মধ্যে সমান ভাবে বন্টন করা হয়। এবং তারা সবাই বিলাসবহুল জীবন যাপন করতেছিলো।

http://www.trickbuzz.design/%e0%a6%ab%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%b8%e0%a6%bf%e0%a6%82-%e0%a6%95%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a6%af%e0%a7%87-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%9c/

পিতার নিকনেম এত জনপ্রিয় থাকায় তার সব বাচ্চা নিজেদের নামের সাথেও পটার নিকনেম টা  জুড়ে দেয়। এবং ওরা তার বাবার মতই সবার কাছে ফেমাস এবং জ্ঞানী হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।  এবং এভাবেই বড় ছেলের নাম হয়ে যায় হার্ডউইন পটার।  এবং এখান থেকেই পটার ফ্যামেলির শুরু হয়।

ধারণা করা  জে কে রাওলিং এর লেখা বই ” দ্যা টেল্স অফ  বিডেল দ্যা বার্ড ” এর ১ম কাহিনী যেটা ছিলো “উইজার্ড এন্ড টা হপিং পট ” কাহিনীটা মূলত লিনফ্রেড ও তার ছেলে হার্ডউইন কে নিয়েই লেখা হয়েছে। কারণ গল্পটায় ও লেখা ছিলো যে একটা উইজার্ড ম্যাগল দের মধ্যে থেকে জাদুকরি পোশন তৈরি করতো এবং তাদের সাহায্য করতো।

ওইদিকে হার্ডউইন গড্রিক হলো তে বসবাস করা একটা সুন্দর মেয়েকে বিয়ে করে যার নাম ছিলো “ইয়োলান্থ প্যাভেরাল” ছিলো।  ইয়োলান্থ প্যাভেরাল ছিলো ইগনোটাস প্যাভেরেল! যে ইনভিজিবল ক্লোক এর মালিক ছিলো , তার নাতি।  এখানে ইগনোটাসের ছিলো এক ছেলে যার মেয়ের নাম ইয়োলান্থ প্যাভেরাল আর এই সূত্রে সে ইনভিজিবল ক্লোকের মালিক হয়। আর বংশ পরম্পরায় সেই ক্লোকের মালিক হবে বংশের প্রথম ছেলের।  আর ইয়োলান্থ ছিলো পিউর ব্লাড ফ্যামেলির  মেয়ে। আর তার অনুরোধে হার্ডউইন এই ইনভিজিবিল ক্লোকের কথা সে গোপন রাখে। আর এই ক্ষেত্রে বংশ পরম্পরায় ১৫শ শতাব্দীতে এই ক্লোকের মালিক হয়  র‍্যাল্সটোন পটার। তখন ১৬১২ থেকে ১৬৫২ পর্যন্ত  উইজার্ডিং ওয়ার্ল্ডের হাই কোর্ট যা আগে ভিজিন্ডা মঠ নামে পরিচিত ছিলো সেটার মেম্বার ছিলো।

এবং সে জাদুকরি গোপনীয়তা আইনের ও সমর্থন করে।   তারপর আসে এব্রাহাম পটার। যার বাবা মা আমেরিকা চলে যায়। এব্রাহাম আমেরিকায় মিনিস্ট্রি অফ ম্যাজিকের শুরুর ১২ অরর দের মধ্যে একজন ছিলো যাদেরকে ম্যাকুইসা এপয়েন্ট  করেছিলো।এব্রাহাম আর ল্যাংস্টোন এর কথা পটারমোর ওয়েবসাইটের থাকা পটার ফ্যামেলির ম্যাপে নাই,কারণ তারা অন্যজায়গায় গিয়ে বসবাস করা শুরু করে। এরপর অনেক জেনারেশন চলে যায়, এবং আসে হেনরি পটার।

হেনরি পটার হগওয়ার্টসে পড়াশুনা করে এবং সে ও একজন পিউর ব্লাড এবং সে গ্রিফিন্ডোর হাউসে ছিলো।  হেনরির বন্ধুরা তাকে হ্যারি বলে ডাকতো এবং হেনরির মা ছিলো ফ্লেমন্ট ফ্যামেলির এবং তিনিও পিউর ব্লাড ফ্যামেলির ছিলো। তার শেষ ইচ্ছা ছিলো তার নাম যাতে তার সাথে শেষ না হয়ে যায় তাই হেনরি তার ছেলের নাম রাখেন ফ্লেমন্ট পটার। হেনরি মাগ্যলদের সাথে অনেক ভালো ব্যবহার করতে যেটা সে তার বংশ থেকে শিখানো হয়েছিলো। এবং এই জন্যই পটার ফ্যামেলির নাম পিউর ব্লাড ফ্যামেলির নামের লিস্ট থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছিলো। যেহেতু ফ্লেমন্ট পটারের সময় ওয়ার্ল্ড ওয়ার ১ চলতেছিলো তখন একটা ঘোষনা হয় যে কোন জাদুকর এই যুদ্ধে অংশ নিবে না, যেহেতু  ফ্লেমন্টের মাগ্যলদের প্রতি একটা আলাদা টান ছিলো তাই সে মাগ্যল দের চিকিৎসা দিতে থাকে।

যেহেতু মাগ্যলরা পটার ফ্যামেলিকে বিশেষ ভাবে জানতো এর কারণে  তাদের ব্লাড রিলেশন নিয়ে দন্দ দেখা দেয় যার ফলে তাদের কে এনসিয়েন্ট পিউর ব্লাড ফ্যামেলির লিস্ট থেকে সরিয়ে ফেলা হয়।

হেনরির পর তার ছেলে ফ্লেমন্ট এর কাছে ইনভিজিবল ক্লোক আসে এবং সে ও হগওয়ার্টসের গ্রিফিন্ডোর হাউসের ছাত্র ছিলো। সে ও তার পূর্বপুরুষের মত হার্বোলজি তে দক্ষ ছিলো। তাই সে খুব জলদি চুল ভালো রাখার একটা হেয়ার পোশন বানিয়ে ফেলে। যা পরবর্তীতে সকল জাদুকরনীদের প্রিয় বস্তু হয়ে উঠে এবং এর দ্বারা ফ্লেমন্ট অনেক সম্পত্তির মালিক হয়। তার একটা কাজিন ও ছিলো যার বিয়ে হয় ডোরিয়া ব্ল্যাকের সাথে, তাদের একটা ছেলেও হয় যার নাম ছিলো ডোরিয়াস চার্লস পটার নামে,তবে তার কোন কাহিনী উল্ল্যেখ নেই।

যাই হোক! তো স্কুল শেষ করার পর ফ্লেমন্ট এর বিয়ে হয় পিউর ব্লাড ইউফেমিয়া নামের একটা মেয়ের সাথে । তবে অনেক দিন পরেও তাদের কোন বাচ্চা হচ্ছিলো না, তাই তারা আশা ছেড়ে দেয়,কিন্তু ১৯৫৯ এ ইউফেমিয়া প্রেগন্যান্ট হয় এবং তাদের একটা বাচ্চা হয় যার নাম ছিলো জেমস পটার।  আর এই জেমস পটার ই ছিলো হ্যারির বাবা, তো ফ্লেমন্ট এর কাছ থেকে ইনভিজিবল ক্লোকের মালিক হয় জেমস এবং সেই সূত্রে মালিক হয় হ্যারি।  জেমস বিয়ে করে লিলি ইভান নামের মাডব্লাড বা মাগ্যল কে, তাই হ্যারি হয় হাফ ব্লাড। এর মাঝখানের কাহিনী আমার লেখা সিরিয়াস ব্ল্যাকের কাহিনীতেই জানা যাবে যে জেমস তার স্কুল জীবনে কি করেছিলো। এবং কি হয়েছিলো, এর পরের কাহিনী সবার জানা,জানা না থাকলে আমার লেখা ভোল্ডমোর্টের হিস্ট্রি পড়লে জানা যাবে। উইজার্ডিং ওয়ার এর কথা।  যাই হোক এরপর আসে হ্যারি যে বিয়ে করে পিউরব্লাড জিনি উইজলি কে এরপর তাদের ৩ টা বাচ্চা হয় যাদের নাম ছিলো আলবাস সেভেরাস পটার, জেমস সিরিয়াস পটার ও মেয়ের নাম হয় লিলি লুনা পটার । আর এভাবেই পটার ফ্যামেলি তাদের পরিচয় ধরে রাখে।

হ্যারি পটার সম্পর্কে আরো জানুন

আসলে আমি যতটুকু পেরেছি পুরোটা চেষ্টা করেছি তুলে ধরার, অনেক দিন লিখি নাই তাই ভাবলাম আজকে এই টপিক টা নিয়ে লিখি। আপনাদের কিছু জানার থাকলে কমেন্টে জিজ্ঞেস করতে পারেন।  বা নেক্সট কেনটা নিয়ে লিখবো সেটা সাজেস্ট ও করতে পারেন। যাই হোক, ধন্যবাদ।

© Nuraisha Nurish Nura

RONiB

This author may not interested to share anything with others!

Add comment

Most popular

Most discussed