Please Enable JavaScript
TrickBuzz

কিভাবে একটি সেরা আর্টিকেল লিখবেন? জানুন ১৫ টি সহজ ধাপ

আর্টিকেল তো প্রায় সবাই লিখতে পারে। কিন্তু সবার আর্টিকেল সফলতা পায় না। সেই আর্টিকেল এর সফলতা নির্ভর করে আর্টিকেল এর মান এর উপর। যদি আর্টিকেল মানসম্মত না হয় তাহলে ভিজিটর যেমন পড়বে না তেমনি সাইটের মান ও কমে যাবে। তবে আমরা আর্টিকেল এর মানের উপর জোড় না দিয়ে আমরা নজর দেই আর্টিকেল এর সংখ্যার উপর।

অনেকে আবার দিনে ২/৩ তিনটা আর্টিকেল ও লিখতে দ্বিধা করি না কিন্তু সেই আর্টিকেল হয় নিম্ন মানের। আর্টিকেল অনেক বেশি ইনফরমেটিভ হলেও যদি সেসব তথ্য সঠিক ভাবে ফুটিয়ে না তোলা যায় তাহলে সেই আর্টিকেলের কোনো মূল্য নেই। তবে অল্প কিছু পদক্ষেপ গ্রহন করে আপনি সহজেই একটি মানসম্পন্ন আর্টিকেল লিখতে পারবেন। তাই আর দেরি না করে এখনই পড়ে ফেলুন ১৫ টি গুরুত্বপূর্ণ ধাপে বিভক্ত আমার লেখা এই আর্টিকেলটি।

কিভাবে একটি সেরা আর্টিকেল লিখবেন? জানুন ১৫ টি সহজ ধাপ
© Tuteehub.com



ধাপ-১ঃ আর্টিকেল লেখার পূর্বে রিসার্চ করুন
ধরুন আপনি কোনো একটি বিষয় নিয়ে আর্টিকেল লিখবেন কিন্তু আপনি সে সম্বন্ধে খুব ভালো পরিষ্কার ধারনা রাখেন না। তাহলে কি আর্টিকেল এ তা ফুটিয়ে তুলতে পারবেন? অবশ্যই না, সেজন্য যে বিষয় নিয়ে আর্টিকেল লিখবেন সেটা সম্বন্ধে গুগল, উইকিপিডিয়ায় খুঁজে সঠিক তথ্য বাছাই করুন। যদি মনে করেন আপনি সেই বিষয়ে জানেন তবুও একটু খুঁজে দেখুন, কোনো কিছু আপডেট হলে সেটা সহজেই জানতে পারবেন। আর রিসার্চ করে পাওয়া তথ্য কোনো নোটপ্যাডে লিখে রাখুন। অর্থাৎ ১ম ধাপ হচ্ছে লেখার পূর্বে ঐ বিষয়ের উপর রিসার্চ করুন।


ধাপ-২ঃ সবসময় সঠিক তথ্য দিন এবং সত্য কথা বলুন
আমাদের একটা ট্রেন্ড আছে যে আমরা কোনো বিষয় সঠিক কিনা সেসব কিছু না দেখেই তথ্য দিয়ে দেই। এটা মস্ত বড় একটা ভুল। কোন সোর্স থেকে এই তথ্য পেয়েছেন সেটা ভালোভাবে যাচাই করুন। আর্টিকেল এর গুরুত্য বাড়াতে অনেকে চটকদার মিথ্যা বলে থাকেন এতে আপনার অডিয়েন্স ক্ষুব্ধ হয় এবং কমেন্ট বক্সে বাজে মন্তব্য করে। তাই মিথ্যা চটকদার কথা এবং ভুল তথ্য দেয়া থেকে বিরত সর্বদা থাকুন।

ধাপ-৩ঃ টাইটেল হোক সংক্ষিপ্ত এবং পরিষ্কার
টাইটেলেই অনেকে পুরো আর্টিকেল তুলে ধরেন, এতে আর্টিকেল এর মান খারাপ হয়। একটা পণ্যের বিজ্ঞাপন দেখেই মানুষ সেইটা কিনতে যায় এবং আর্টিকেল এর বিজ্ঞাপন হচ্ছে টাইটেল। বিজ্ঞাপন যেমন একটা সিনেমার মতো দীর্ঘ হয় না তেমনি টাইটেল ও হওয়া উচিত সংক্ষিপ্ত। সঠিক টাইটেল এর কিছু বৈশিষ্ট্য আছে যেমনঃ

★ টাইটেল এ কোনো ইমোজি ব্যবহার করবেন না।

★ টাইটেল হতে হবে প্রশ্নবোধক। যেমন “কিভাবে এটা করে??” কিংবা “এটা করব কিভাবে??” এরকম টাইটেল হলে সবাই আগ্রহ দেখায়।

★ টাইটেল “মাথা ঘোরানো নিয়ম, মাস্ট দেখুন, পরে পস্তাবেন, আর পাবেন না, মিস হয়ে যাবে”  এরকম শব্দ বাজারের মাছ বিক্রেতারাও ব্যবহার করে না। কোনো আর্টিকেল এর ভিউ আসে সাধারণত সার্চ থেকে। আর কেউ কি কখনো এরকম কিছু লিখে সার্চ দেই?? যদিও আমাদের দেশে সার্চ থেকে তেমন অডিয়েন্স আসে না তবুও এধরণের শব্দ পরিহার করুন।

★ টাইটেল খুব দীর্ঘ হবে না, সর্বোচ্চ ৪০ ক্যারেক্টার (বোঝার সুবিধার্থে ক্যারেক্টার বলতে অক্ষর বুঝতে পারেন) হতে পারে। তবে খুব প্রয়োজন হলে এর থেকে বেশি করতে পারেন। তবে ৪০ এর নিচে থাকা ভালো।

★ টাইটেল এর সাথে থাম্বনেইল এবং আর্টিকেল এর সবকিছু ১০০% মিল থাকতে হবে।

 ★ টাইটেল এমন ভাবে লিখুন যেন সেটা দেখে সবাই আর্টিকেলে ঝাঁপিয়ে পড়ে। প্রথম আলো বা এরকম বিখ্যাত পত্রিকার ফেসবুক পেজে গিয়ে শেয়ার করা নিউজ এর টাইটেল দেখুন, ধারনা পাবেন কিভাবে লোভী টাইটেল দিতে হয়।

এই তো গেল টাইটেল এর বৈশিষ্ট্য এখন এগুলোর একটাও যদি বাদ পরে তবে আপনার টাইটেল মানসম্মত হবে না। তাই, জেনে বুঝে টাইটেল লিখুন।

ধাপ-৪ঃ শুরুতে সম্ভাষণ দিবেন না
অনেকে আর্টিকেল এর প্রথম থেকে ১০/১২ লাইন ধরে চৌদ্দ গুষ্টির খোঁজ খবর নিয়ে ফুরিয়ে ফেলেন। আর্টিকেল এর প্রত্যেক শব্দ মূল্যবান, অযথা আজেবাজে কথায় নষ্ট করবেন না। কেউ আপনার সালামের উত্তর দেবে না বা আপনার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবে না। সবাই আপনার খোঁজ খবর না নিয়ে আর্টিকেল পড়তে এসেছে।

তাই, “কেমন আছেন?, ভালো তো আছেন নিশ্চয়, আমাদের সাথে থাকলে সবাই ভালো থাকে, আমার সালাম নিবেন” এসব লেইম কথা বলে আর্টিকেল এর শুরুতেই ভেজাল বাধিয়ে দিবেন না। এসব কথা লিখলে সবাই বিরক্ত হয়। তাই, প্লিজ শুরুতে কোনো সম্ভাষণ দিবেন না।

ধাপ-৫ঃ শুরুটা হোক সামারি দিয়ে
সামারি আমরা অনেক সময় লিখে থাকি, বিশেষ করে পরীক্ষাতে। একটা বড় গল্প থাকে সেখান থেকে প্রধান প্রধান পয়েন্ট গুলো সামারিতে তুলে ধরতে হয়। তবে আর্টিকেল এর সামারি বা ইন্ট্রো হবে একটু ভিন্ন। সামারিতে লিখবেন সমস্যা গুলো যেই সমস্যার সমাধান আছে আপনার আর্টিকেলে।

“আপনি কি জানেন, কখনো কি ভেবেছেন, হয়তো এরকম সমস্যায় আপনিও পড়েছেন” এই ধরণের শব্দের প্রয়োগ হবে সামারি বা ইন্ট্রো তে। পুরো আর্টিকেল এর যত মেইন টপিক এবং যেসব সমস্যা আপনি কভার করছেন সেগুলো লিখবেন এখানে।

ধাপ-৬ঃ সামারি বা ইন্ট্রো দেয়ার পরে দিন একটি আর্টিকেল রিলেটেড ইমেজ
ব্লগারে থাম্বনেইল ব্যবহার এর উপায় নেই বলে আর্টিকেলের প্রথম ইমেজ কে ব্লগার থাম্বনেইল হিসেবে ইউজ করে। আর ওয়ার্ডপ্রেস এ থাম্বনেইল এড করা যায়। তবে যে থাম্বনেইল দিবেন সেটা আর্টিকেল এর সামারি শেষে দিয়ে দিবেন এবং সেটার পরে থেকেই মূলত আর্টিকেল এর মুল কথা শুরু হবে।

শুধু এই ইমেজটি ছাড়া অপ্রাসঙ্গিক কোনো ইমেজ ব্যবহার করবেন না। অনেকে Welcome বা এধরণের গিফ্ট ইমেজ বা স্টিল ইমেজ ব্যবহার করেন। এগুলো আর্টিকেল এর মান কমিয়ে দেয় তাই পরিহার করুন। শুধু সামারির পরে আর্টিকেল এর থাম্বনেইল এবং প্রয়োজনীয় স্ক্রিনশট বা প্রয়োজনীয় ইমেজ ব্যবহার করুন।

ধাপ-৭ঃ ছোট ছোট প্যারাগ্রাফে লিখুন
অনেক বড় প্যারাগ্রাফ হলে দেখতেও যেমন খারাপ লাগে তেমনি পড়তেও সমস্যা হয় তাই, মোবাইলের ভিউ এর ক্ষেত্রে ৩/৪ লাইনের প্যারাগ্রাফ এবং কম্পিউটার এর ভিউ ক্ষেত্রে ২/৩ লাইনের প্যারাগ্রাফ ব্যবহার করুন।

ধাপ-৮ঃ আর্টিকেলের কনসেপ্ট গুলো পয়েন্ট আকারে লিখুন
পয়েন্ট আকারে লেখা আর্টিকেল দর্শক কে বেশি আকৃষ্ট করে তাই পয়েন্ট আকারে লেখার চেষ্টা করুন।

ধাপ-৯ঃ আর্টিকেলে হেডিং এর ব্যবহার করুন
আর্টিকেল এর টাইটেল টা আর্টিকেলের শুরুতে হেডিং ১ দিয়ে লিখুন কারণ টাইটেল সবথেকে গুরুত্তপূর্ন। এরপরের গুরুতপূর্ন লেখাটি লিখুন হেডিং ২ দিয়ে। এভাবে গুরুত্ত অনুযায়ী লিখতে থাকুন।

ধাপ-১০ঃ আর্টিকেল সেকশন আকারে লিখুন
ধরা যাক আপনি HTML নিয়ে একটি আর্টিকেল লিখবেন। এখন টাইটেল সবার প্রথমে থাকবে হেডিং ১ এ। এরপরে সেকশন আকারে হেডিং ২ বা ৩ দিয়ে লিখুন “HTML কী?” এটা লেখার পরে HTML কী সেটা ব্যাখ্যা করুন সাধারণ ভাবে। এরপরে ব্যাখ্যা শেষে আবার আরেক সেকশনে লিখুন, “HTML কেন প্রয়োজন ?” এটাও আগেরটার মতো করে।

এভাবে লিখলে পড়তে সুবিধা হয়। যেমন বই এর এক অধ্যায়ের ভেতর পাঠ পাঠ ভাগ করে দেয়া থাকে। সেরকম করে লিখুন। একটা উদাহরণ দেই, “Shovon’s Diary” এখানে গিয়ে চেক করুন আর্টিকেল গুলোতে কেমন করে সেকশন করা আছে এবং হেডিং দেয়া আছে। আর্টিকেল এর স্বার্থে এই লাইনটি দিয়েছি, কোনো পার্সোনাল কারণে নয়।

ধাপ-১১ঃ প্রত্যেক ইমেজ এর নিচে ক্যাপশন দিন
প্রত্যেক ইমেজ এর নিচে ক্যাপশনে ইমেজ এর সোর্স লিখুন অর্থাৎ কোথায় থেকে ইমেজটি নিয়েছেন সেটা। অথবা আর্টিকেল এর একদম শেষেও দিতে পারেন। এতে কপিরাইট ইস্যুতে প্রব্লেম হবে না এবং প্রফেশনাল ভাব আসবে লেখায়।

ধাপ-১২ঃ কোনো লেখায় কালার ব্যবহার করবেন না
আমরা আসলে সবকিছুতে ঝলমলে রং চাই। এটা বাদ দিন। সম্পূর্ণ আর্টিকেলে কোথাও এক চিমটাও রং ব্যবহার করবেন না। একদম না, যদি কোনো কিছু হাইলাইট করতে হয় সেটা বোল্ড করুন। তবুও রং নয়। অনেকে সম্পূর্ণ লেখারয় কালার ব্যবহার করে, কিছু জায়গায় লাল, নীল, হলুদ ব্যবহার করে। কিন্তু এসবে আর্টিকেল একদম নিম্নমানের হয়ে যায়। বিশ্বাস না হলে গুগোলে বড় বড় ব্লগার এর একটু খোঁজ করে তাদের আর্টিকেলে দেখুন কোথাও রং নেই।

ধাপ-১৩ঃ আর্টিকেল এর শেষে, কমেন্ট বা শেয়ার চান
আর্টিকেল এর শেষে, এক লাইনে লিখুন কমেন্ট এর কথা, এক লাইনে লিখুন শেয়ার এর কথা। হাতজোড় করে বা দয়া চেয়ে কমেন্ট বা শেয়ার করতে বলবেন না।

আপনি কত কষ্ট করে আর্টিকেল লিখেছেন এটা কেউ জানতে চায় না তাই এসব লেইম কথা বাদ দিন। কতটা ব্যস্ত আপনি বা কমেন্টের রিপ্লে দিতে কত কষ্ট হয় বা রাত না দিন জেগে আর্টিকেল লিখেন এসব কাউকে জানানোর দরকার নেই।


ধাপ-১৪ঃ সম্ভাষণ দিন শেষে
প্রথমে সম্ভাষণ দিতে নিষেধ করেছিলাম তাই এখন সবার শেষে সর্বোচ্চ এক লাইনে সম্ভাষণ লিখুন। যেমন “ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন এই কামনায় শুভ বিদায় বা এই কামনায় আবার দেখা হচ্ছে নেক্সট আর্টিকেলে” এভাবে লিখুন। এই কথার শেষে একটা মিষ্টি হাসির ইমোজি দিলে ভালো লাগে। এছাড়া কোনো ইমোজি ব্যবহার করবেন না।

ধাপ-১৫ঃ আর্টিকেলের প্রত্যেক কমেন্টে রিপ্লে দিবেন
কেউ যদি অকথ্য ভাষায় গালিও দেয় তবুও ঐ কমেন্টে ভদ্র রিপ্লাই দিবেন যেমন “দুঃখিত আপনার কথা আমি বুঝতে পারি নি”। কোনো আক্রমণাত্মক কথা লিখবেন না। কেউ যদি আর্টিকেল এর বিরুদ্ধে কিছু বলে সেটার রিপ্লাই হিসেবে তাকে সুন্দর ভাষায় বুঝিয়ে বলুন। যদি বোঝাতে ব্যর্থ হন তবে ক্ষমা চেয়ে নিন।


আজকের মতো এখানেই শেষ, আগামীতে দেখা হবে নতুন কোনো বিষয় নিয়ে। সেই পর্যন্ত সুস্থ থাকুন, পড়তে থাকুন নতুন নতুন আর্টিকেল। যেকোনো মতামত লিখুন কমেন্ট বক্সে। আরআপনার প্রিয় বন্ধুদের জানাতে চাইলে শেয়ার করতে পারেন এই আর্টিকেলটি।

© TrickBuzz.Net 2015-2020

RONiB

This author may not interested to share anything with others!

Add comment

Most popular

Most discussed