Please Enable JavaScript
TrickBuzz
কম্পিউটার সিকিউরিটি

কম্পিউটার সিকিউরিটির বিস্তারিত 2020

প্রথমেই বলে নিই আমি ইংরেজিতে কমফরটেবল ফিল করি বিধায় এখানেও ইংরেজীতেই লিখতাম; কিন্তু ভাবলাম বাংলাতে লিখলে সবার জন্যই সুবিধা হবে। এভাবে বাংলায় লেখার জন্য বানানে ভুল ভ্রান্তি থাকতেই পারে, আশা করি একটু কষ্ট করে হলেও বুঝে নিতে পারবেন পুরোটাই।

http://www.trickbuzz.design/%e0%a6%ab%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%b8%e0%a6%bf%e0%a6%82-%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a7%87-%e0%a6%95%e0%a6%b0%e0%a6%ac/

প্রায় সময়ই অনেকের অনেক জিজ্ঞাসা থাকে তাদের কম্পিউটার এর সিকিউরিটি এর ব্যাপারে । যেমনঃ কোন এন্টিভাইরাস নিব? উইন্ডোজ ১০ এর বাই ডিফল্ট দেয়া ডিফেন্ডার ই এনাফ কিনা ইত্যাদি। এ ব্যাপারে অনেকেরই অনেক ধরণের মিসকনসেপশন আছে। অনেকেই প্রচলিত ধারণাতেই চলে এবং অন্যদেরকেও একই সাজেশন দিয়ে থাকে । যাই হোক, আমি চেষ্টা করছি একটা পোস্ট এ যত প্রশ্নের উত্তর দেয়া সম্ভব দিতে।

প্রথমেই একটা কথা বলে নেয়া ভাল, এন্টিভাইরাস একই জিনিশ না। ব্যাপারটা অদ্ভুত শোনাচ্ছে, তাই তো?

আমরা যেসব জিনিষের সাজেশন চাই তার সব গুলো একটা কমন ক্যাটাগরিতেই পড়ে। তা হল, এন্টি ম্যালওয়্যার। আগে বলে নেয়া দরকার এই ম্যালওয়্যার জিনিষ টাই বা কি। ম্যালওয়্যার শব্দটি এসেছে ম্যালিসাস থেকে যেটা ইংরেজীতে আমাদের কাছে Malicious নামে পরিচিত । এর বাংলা অর্থ হল ক্ষতিকারক । কম্পিউটার এর জন্য ক্ষতিকারক সব সফটওয়্যার বা ফাইল সবই এই ম্যালওয়্যার ক্যাটাগরিতে পড়ে । সকল ভাইরাস, ট্রোজান, র‍্যানসমওয়্যার সহ সব ক্ষতিকারক জিনিষ এই ম্যালওয়্যার এর ভিতরেই পড়ে । এদের থেকে সুরক্ষা পেতে আমরা যা ব্যবহার করি তার সবগুলো এককথায় এন্টি ম্যালওয়্যার নামে পরিচিত । বিভিন্ন এন্টি ম্যালওয়্যার কোম্পানি তাদের বিজনেস পলিসি এবং তাদের ক্রেতা এর কথা মাথায় রেখে অনেকগুলো ভার্সন বের করে । এর মধ্যে খুব প্রচলিত ভার্সন হল ৩ টিঃ এন্টি ভাইরাস, ইন্টারনেট সিকিউরিটি , টোটাল সিকিউরিটি। বুঝতেই পারছেন যে প্রতিটাতেই অবশ্যই কিছু অতিরিক্ত সুবিধা এবং প্রতিরক্ষা ব্যাবস্থা আছে ।

প্রশ্ন হচ্ছে কোনটা কাদের জন্য!

এন্টিভাইরাসঃ যারা একদম বেসিক প্রোটেকশন চান, কম্পিউটার এ ইন্টারনেট ব্যাবহার করেন না বা ওকেশনালি ব্যবহার করেন, তাদের জন্য । এরা মূলত সকল ভাইরাস, কিছু ট্রোজান সহ আরো বেসিক এন্ট্রি লেভেল আর মিডিয়াম লেভেল এর থ্রেট ডিটেক্ট করতে পারে । এগুলোর দাম তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে কম হয়ে থাকে ।

ইন্টারনেট সিকিউরিটিঃ যারা পিসিতে সবসময় ইন্টারনেট ব্যবহার করেন, তারা এসব ব্যবহার করেন । এতে ক্লাউড বেজড সিকিউরিটি ভালোমত দেয়া থাকে । বেশিরভাগ মানুষজন এসব ব্যবহার করেন । এরা সব ধরণের ভাইরাস, ট্রোজান সহ অনেক থ্রেট ডিটেক্ট করতে পারে কিন্তু প্রায় কোনোটাই র‍্যানসমওয়্যার এর প্রোটেকশন প্রোভাইড করেনা ।

টোটাল সিকিউরিটিঃ এটি হল একটি কমপ্লিট বান্ডল । এতে সব ধরণের সিকিউরিটি ফিচারস দেয়া থাকে আর তাই দাম টাও সবচেয়ে বেশি হয় । র‍্যানসমওয়্যার প্রোটেকশন সহ আলাদা অনেক ফিচার এতে যোগ করা থাকে (যেমনঃ ডিস্ক ওয়াইপার, ফাইল শ্রেডার , পারফরমান্স টুলস ইত্যাদি।)। যারা কমপ্লিট প্রোটেকশন চান তারা এসব ব্যবহার করে থাকেন ।

>>> আমি কি এসব ব্যাবহার করব ?

উত্তরঃ আপনার উপরেই নির্ভর করে। প্রথমত আমি বলব, সেলফ প্রোটেকশন ইজ দি বেস্ট প্রোটেকশন । নেট থেকে কখন কি নামাচ্ছেন, কোন ধরণের সাইট ব্রাউজ করছেন, কার থেকে কেমন ফাইল বা ডেটা আপনার নিজের পিসিতে আপনি নিচ্ছেন এসব সহ আরো অনেক কিছুর উপরেই ডিপেন্ড করে । তাই বলে আপনি নিজে ১০০% ঠিক থাকলেও যে আজীবন একদম সেইফ থাকবেন এমনটা নাও হতে পারে। তাই অনেকেই একটা হেল্পিং হ্যান্ড হিসেবে এসব রাখেন । নিজেরা তো সতর্ক থাকলেনই । তারপরেও ভুলবশত বা অন্য কোনো ভাবে কোনো ম্যালিসাস কিছু আপনার ক্ষতি করতে চাইলে যদি কেউ আপনাকে warn করে মনে করিয়ে দেয় তবে ক্ষতি কি? এ ব্যাপারে আরো অনেক মত-অভিমত আছে, আছে আরো অনেক ফ্যাক্ট যার সব একটা পোস্ট এ এভাবে লিখে জানানো সম্ভব না ।

>>>উইন্ডোজের বাই ডিফল্ট ডিফেন্ডার কেমন?

যদি আপনার উইন্ডোজ টি জেনুইন হয়ে থাকে তাহলে অনেক ভালো পারফরমান্স পাবেন । আমরা বেশিরভাগ পাইরেটেড কপি ব্যবহার করি। অনেকে বলে যে অরিজিনাল সাইট থেকে আইএসও নামিয়ে পরে ক্র্যাক বা অন্যের লাইসেন্স বসিয়ে দেই । এটার ব্যাপারে বিস্তারিত এখানে জানাতে পারলে সবচেয়ে ভালো হত । সময় স্বল্পতা থাকায় এককথায় জানিয়ে দিচ্ছি, ওভাবে করা আপনার উইন্ডোজ জেনুইন না । পাইরেটেড কপি তে ১০০% ফুল এফিসিয়েন্সি আপনি পাবেন না ডিফেন্ডার এর । তবে তাও যা পাবেন তাও খারাপ না । এর সাথে আপনার সেলফ নলেজ আর প্রোটেকশন নলেজ ভালো থাকলে অনেকদূর এগিয়ে থাকবেন ।

>>> এসবের দাম তো অনেক বেশি । কিভাবে কিনব?

আপনি কম দামেও কিনতে পারবেন । এখনকার গুলো বেশিরভাগই ডিস্ক থাকে না, ডিরেক্ট লাইসেন্স ই প্রোভাইড করে । আপনি অনেক সাইট থেকেই একদম জেনুইন লাইসেন্স কিনে নিতে পারবেন আর সাইট থেকে সফটওয়্যার নামিয়ে লাইসেন্স বসিয়ে চালাতে পারবেন । ফেসবুকের অনেক পেজেও লাইসেন্স অনেক কমের মধ্যে সেল করে। সেসব পেজের রিভিউ দেখে ট্রাস্টেড মনে হলে শুধুমাত্র তখনই তাদের থেকেও কিনে নিতে পারেন। অনেক অনলাইন শপ থেকেও কমে পারবেন কিনে নিতে। এরা অনেকেই বাল্ক ভাবে কিনে থাকে তাই আপনাদেরকেও অনেক কমের মধ্যে জেনুইন লাইসেন্স দিতে পারে। আর এসবের লাইসেন্স ঠিক আছে কিনা সেটা বোঝার অনেক উপায় আছে কারণ সবগুলোতেই আপনার একটা একাউন্ট থাকে সেই সফটওয়্যার এর অফিশিয়াল সাইট এ। সেখানে লগ ইন করেও আপনার লাইসেন্স , মেয়াদ, কোন ডিভাইস এ একটিভ আছে সব মনিটর করতে পারবেন ।

>>>ক্রাকড চালালে হবে না?

এককথায় উত্তর দিলে, না । কারণ এসব নিজেরাই ক্রাকড থাকায় ডিফেক্টিভ থাকে। এছাড়াও যারা ক্রাক করে তারাও কিছু উদ্দেশ্য নিয়েই এসব করে । এসবের মধ্যে ডেটা লিক, স্পাইং , ব্যাকডোর এক্সেস সহ আরো অনেক ব্যাপার থাকে । আপনার প্রশ্ন থাকতে পারে যে আপনি আহামরি কেউ নন, আপনার পিসিতে এমন কিছুও নেই যেটা অন্যের কাজে লাগবে । তাও যদি আপনি এটা ভেবে কোনো কিছু ফিল না করেন যে আপনার ডিভাইস পুরোপুরি সেইফ না বা অন্য কেউ এক্সেস করতেও পারে, তাহলে চালাতে পারেন কিন্তু ক্ষেত্রবিশেষে এসবের ইফেক্টিভনেস ২০% থেকে ৫০% হয়ে থাকে। আমি আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছি এর প্রত্যেকটি অনেক বিষদ ব্যাপার ; সময় স্বল্পতার জন্য সব একসাথে জানাতে পারছি না কিন্তু আপনাদের রেসপন্স এ যদি জানার প্রতি আগ্রহ দেখি তাহলে প্রতিটা পার্ট নিয়ে ইন ডিটেইলস পোস্ট দিব সময় করে ।

>>>নরমালি এসব ছাড়া শুধু ডিফেন্ডারই কি সেইফ রাখবে?

চালাতে পারেন । আরেকটা উপদেশ দেই । পিসিতে একটা অন ডিমান্ড স্ক্যানার রাখবেন । যেমনঃ সবার প্রথমেই চলে আসে ম্যালওয়্যারবাইটস, তারপরে এমিসফট । এসবে মাঝে মধ্যে কিছুদিন পর পর জাস্ট আপডেট দিয়ে একটা স্ক্যান করে নিবেন । এমনিতেও যদি অস্বাভাবিক কিছু দেখেন যেটা ডিফেন্ডার ডিটেক্ট করতে পারছে না তবে অন ডিমান্ড স্ক্যানার দিয়ে স্ক্যান করে নিতে পারেন । ট্রাস্ট মি, ইট উড বি ইফেক্টিভ ।

>>>কোন সফটওয়্যার চালালে পিসি স্লো হবে না?

এটা একটা উদ্ভট প্রশ্ন । কেন? এর উত্তরটাও যে উদ্ভট!!!😁

প্রত্যেক সফটওয়্যার কোম্পানি এর ওয়েবসাইটে গিয়ে সেসবের মিনিমাম রেকোয়ারমেন্ট আর রেকমেন্ডেড টাও দেখে নিবেন । ধরুণ, যার Ryzen 5 3600, 16GB RAM আছে, তার কাছে জিজ্ঞেস করলে সে বলবে সবই স্মুথ পারফর্ম করে। কিন্তু যার i3 4th Gen, 4GB RAM তার ক্ষেত্রে দেখবেন সেই সফটওয়্যারটাই অনেক বাজে পারফর্ম করছে । এসব আপনার হার্ডওয়্যার এর উপরে ডিপেন্ড করে। আপনি কোনো রকমে কাজ চালাতে চাইলে মিনিমাম রেকোয়ারমেন্ট দেখে কনফার্ম করুন । আর যদি সব কিছুতেই ভালো পারফরমান্স চান তবে রেকমেন্ডেড রেকোয়ারমেন্ট টা দেখুন।

>>>শুধু এসব পেইড সফটওয়্যার রাখলেই কি আমি ১০০% সেইফ?

উহম! নাহ!!!😊

http://www.trickbuzz.design/%e0%a6%97%e0%a7%81%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%af%e0%a7%87-%e0%a6%b8%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%9f-%e0%a6%ab%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%bf-%e0%a7%ab%e0%a6%9f/

নিজেকে নলেজএবল করুন। কোন সাইট এ যাচ্ছেন, কি কি ডাউনলোড করছেন, কোনো সফটওয়্যার অদ্ভুত আচরণ করছে কিনা এসবও নিজে নিজেই খেয়াল রাখুন । যারা ক্রাকড ইউজার তারা পেইড এন্টি ম্যালওয়্যার নিলেও সেটা ডিজএবল করে গেইম সেটআপ দিবেন, ম্যালিসাস সফটওয়্যার এর ওয়ার্নিং পেলেও ইগনোর করে চালাবেন আর দিন শেষে বিপদে পড়লে পেইড এন্টি ম্যালওয়্যার এর দোষ দিলে সেটাও আপনাকে জানাবে, “Am I a joke to you???”😒

>>>ভালো কিছু এন্টি ম্যালওয়্যার এর নাম বলেন।

বিটডিফেন্ডার, ক্যাসপারস্কি (USA তে ব্যান করা হয়েছে রাশিয়ানরা স্পাই করত বলে), ম্যাকাফি, নরটন, ট্রেন্ড মাইক্রো, ইসেট, এভাস্ট ইত্যাদি।

>>>ফ্রি সফটওয়্যার এ কাজ হবে না?

একদম এন্ট্রি লেভেল এর কাজ হবে কিন্তু অনেক লিমিটেশন থাকার পাশাপাশি পেইড এ শিফট করার জন্য বার বার আপনাকে জ্বালাবে !!!

>>>আমি এসব ঝামেলা থেকে রেহাই পেতে চাই। কি করব?

ডিরেক্ট লিনাক্সে শিফট করেন।😉

আমি জানি আপনাদের আরো অনেক প্রশ্ন থাকতেই পারে। সময় না থাকায় সব জানাতে পারি নি ঠিকমত। তারপরেও আপনাদের জিজ্ঞাসা এর উত্তর দেবার চেষ্টা করব কমেন্ট বক্সে।

আমাদের সাইটের আর্টিকেলগুলো ভালো লাগলে অবশ্যই আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না। লেটেস্ট আর্টিকেলগুলো ইমেইলে পেতে আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন।

লেখকঃ ফাহিম বিন আমিন

RONiB

This author may not interested to share anything with others!

Add comment

Most popular

Most discussed